We built a house on sands

ভোর বেলায় বিউগল বাজাচ্ছে কে যেন। হাই টেম্পো। ধীরে ধীরে শব্দ কাছে আসতে লাগল। আরো কাছে। চোখ মেলে দেখে মোবাইলের এলার্ম। বন্ধ করে দিতেই কাঠের বেড়ার পাশের সমুদ্রের ডাক। কালো বেড়ালটা লাফ দিয়ে টেবিলের উপরে। ওখানেই… জাদুর ঘড়িটা। একটা ডায়াল নড়ে গেলে সময় আর অবস্থান চিকন সূতায় বেঁধে ছুটে যাবে অন্য কোন স্বপ্নে। রবিন হুড দ্যা গ্রিন হুডেড গাই। অসহায় মানুষগুলোর জন্য বুকে ছটফট করে। হিসস। বিড়ালই যে সে। বিশাল ঢেউ ভেঙে পরার শব্দ। বিছানা থেকে এলোমেলো উঠে বসে বালিতে পা ডুবানো। ডান পাশে তাকাতেই কোরাল তট। আর লাল, নীল, সবুজে ছাতা। লাল বেঞ্চে ছোট্ট একটা জলপরী বসা। মেয়েটা এত ছোট, দেখে রাখতে হয় অনেক। সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ে তার হাসি। ঝাউবনের পাশ থেকে ডুবা বালিতে ডুবে ডুবে এগুই। সমুদ্রটা যে অনেক কাছেই। নাগরিক কোলাহল মাথার ভিতরে তারস্বরে বাজছে। হঠাৎ এক ঝলক আলো। ভারী বজ্রপাতে প্রকম্পিত শহর। শুধু তুমি পিচের পথের মাঝে থেকে হেটে যাও অনিশ্চিতে। আবার একটা ঝলকানি।  সাথেই ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি।

“একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে…” কিন্তু না, অঞ্জনের সেই বৃষ্টিতে আমার হাতে ছাতা ছিল। জলপরীটার দেয়া। এত মায়ামায়া মেয়েটা। শহর আর সমুদ্রের মাঝখান থেকে আমরা হেঁটে যাই। আশ্রয়ে ছুটে আসা গাংচিলও বলতে চায় “অসময়ের কোন গল্প নাই”. তাই আমরা চুপচাপ হেঁটে যাই। আমাদের কোন তাড়া ছিলনা। কোরালে হেলান দিয়ে সাগরে ডুবে ডুবে আমাদের ফিসফিসিয়ে গল্প। যাহঃ যাওয়ার সময় হয়ে গেল। ছোট থেকে বড় ঢেউ আছড়ে আসে। একটু কেঁপে উঠি। তারপরেই অবিচল।  পরীটা পা দুলায় আর গল্প করে। হয়তো স্লাইড ক্যালিপার্সের মাইক্রোমিলিমিটারে মাপতে হবে আমাদের আঙ্গুলের দূরত্ব।  উঠে আসি। ছোঁয়া হয়না। মাপা হয়না। ঘোলাটে হয়ে যায় সাদা বালি, কাঠের দেয়াল, কমলা টিশার্টটা। এক ঝলক ঠান্ডা বাতাসে দুলে উঠি। বালিতে চোরাবালিতে তফাৎ কতখানি? কে জানে। ডুবে যাচ্ছি। আরো গভীরে। দূরের  উত্তাল সমুদ্রে কোনমতে ভেসে থাকা ট্রলারটাকে সৌভাগ্যবান মনে হয়। সমুদ্রের সাথেই জীবন। আমিও সমুদ্রেই যাব। আমার নৌকাটা ডুবে গেছে বহু বছর আগে। শুধু খোলা চোখে দিগন্ত দেখি…