ঘুমগল্প

রাত্রের অন্ধকার থেকে একটা হাত বেড়িয়ে আসে। ধোঁয়া ছায়ায় তার শীর্ণ পাঁচটি আঙ্গুলকে অবলোকে ছুঁয়ে দেখি। দূর থেকে ডাক ছুটে আসে। ছুটতে ছুটতে। আমিও ছুটি। সাঁই সাঁই হলুদ সাদা আলোর ছোটাছুটিতে হঠাৎ নিজেকে অপাঙতেও মনে হয়। ফুটপাথ থেকে রাস্তার মাঝখানটাই তখন বড় আপন। সোডিয়াম বাতিগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগে আজ বিষন্ন। হঠাৎ কোথাও কি একটা দ্যুতি খেলে গেল? শহরের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা মোবাইলটা ইথারে যে গল্পগুলো রেখে গেল, তার খোঁজ কে রাখে? চায়ের দোকানের ১৫ ইঞ্চি টিভিটায় ছক্কার কোলাহলটা বেশ শোনা যায় কিন্তু। রঙিন আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে গেলে দেখি হাওয়াইয়ান গীটারের সাথে তবলায় বোল তুলেছে হলুদ হ্যাটের ভদ্রলোক। পিছনের ধূসর মানচিত্র ঝাপসা হয়ে আসে। হঠাৎ জীবনে ফিরে আসি। কাঁধের ব্যাগটা এত ভারী না হলে ছুটতে খানিকটা কম কষ্ট হত। পানি? একটু পানি? যে পানির জন্য যুদ্ধ হচ্ছে আজ?

“where were you when I was hurt and I was helpless?”

লাল একটা হেলমেট চেপে সাঁই করে ছুটে গেল এক সাইক্লিস্ট। পিছনেও একটা লাল চোখ। জ্বলে আর নিভে। বলতে চায় “see? um watching.” বড্ড তাড়া হয়তো। বাবার কোলে বসা পিচ্চিটা মোটরসাইকেলের সামনে বসে গোল চোখে শহর দেখে। বড় বড় প্রাচীর দেখে। সারি সারি আলো দেখে। ট্রাফিকের লাল ম্যাজিক ওয়ান্ড দেখে কিন্তু আকাশ দেখেনা। বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে যে। আর কত্ত ছোট। সরু একটা পথের মত আকাশে ছোট্ট যে দুই একটা নীল সাদা বিন্দু দেখে মনভোলা হাসি দেয়, সেটাও প্রাচীন অনেক। সেই আদিকাল থেকে। আমিও।

আর ছুটতে ইচ্ছা করেনা। পথের একাকীত্বে গা মিশাই। এখন আমার ঘুমিয়ে পরাই ভাল…

Advertisements