হিমভ্রম

বিড়ালটা ট্র্যাশ ক্যান এর পাশ থেকে বের হয়ে হাতটা চেটে নেয়। হলুদ স্কার্টে হলুদ আর বেগুনী মিশানো ছন্দ নেমে চলে সিড়ি বেয়ে। হলুদ আগুনে নেচে বেড়ায় কোন স্যাক্সোফোনিক ধোঁয়া? লাল তরলে ভেসে যাওয়া অলীক স্বপ্নগুলো যদি হঠাৎ রক বাজানো শুরু করে কেমন হবে বল দেখি? বড্ড বিতিকিচ্ছিরি। পিচসড়কে দু’পাশে সারি সারি ল্যাম্পপোস্ট কুয়াশার বলয় দিয়ে কোন একটা গল্প বলার চেষ্টা করছিল হয়তোবা। দিগন্তের ওপাশে কি সেই আমাদেরই পায়ের ছাপ?

The grass was greener
The light was brighter
With friends surrounded
The nights of wonder

বেলুনে চেপে পৃথিবীটাকে দেখার শখ অনেকদিনের। কোন এক সকালে ঘুম ভেঙে দেখব পৃথিবীর ৪০০০ ফুট উপরে। তারপর ডানা ঝাপটিয়ে সেই দূর দেশে। যেখানে রাজকন্যা। ধুর,রাজকন্যা টন্যা সব বোগাস। মীথ। প্রাসাদের পাথরগুলোও সে কথা বলে। জানালা টপকে খেলতে যাওয়া কি আর আজকের কথা? তখন আমার একটা ড্রাগন ছিল। টুথলেস না কিন্তু। সমুদ্রের যে দ্বীপটায় ঝড় আর আগুন ঘরবাড়ি সাজায়, সেখানে তার বাসা। জোনাক জ্বলা রাতে লাল, নীল আর ধোয়াটে আভায় শিশুপাখিটার বড় ভয়। দূর্গম, দূর্বোধ্য পৃথিবী। বেঁচে থাকাটা তেমন মুশকিল না হলেও পছন্দনীয় ছিলনা তেমন। এক ডুবে সমুদ্রের তলদেশে প্ল্যাঙ্কটন পা রেখে হঠাৎ যদি মনে হয় ডলফিন হলেই বেশি ভাল হত? কে জানে। ডলফিন না হতে পারি, ছোটখাটো একটা জেলিফিশ হলেও চলে যেত দিন। স্বচ্ছ পাখনায় রংধনুর আবেশ। ফিনিক্স পাখির কথা বলছ? চিঠি বয়ে বয়ে সে বুড়ো হয়ে গেছে অনেক। এখন তার অখন্ড অবসর। চিমনি থেকে উঁকি দেয়া হুঁকো বুড়ো সরসরিয়ে নেমে এসে যখন সকালের নাস্তা চায়, শেয়ার মার্কেটে তখন বড্ড ব্যস্ততা। কারও দাম বাড়ছে, কারও কমছে। আমিও কমতে কমতে ঋণাত্মক অংকে। ভগ্নাংশে যে আমি বড্ড কাঁচা। হিসেবের খাতাটা ধূলোময়। আমার স্মৃতিগুলোও…

Advertisements