শহরের প্রিয়তমা

প্রিয়তমা, তোমাকে বলে দিব সন্ধ্যা নেমে আসা কবিতার অলেখা চরণ,

গা ঘেঁষা বাসে ব্রাহমের ওপাস ১২০ আর তোমাকে ভালোবাসা অকারণ

জ্যামলাগা এই শহরে যখন ধৈর্য্য ছুটি নেয় আশা নিরাশার বিলম্বতায়,

কাঁচ দেয়ালে আঁকা আকাশের ছবিটা সাদা থেকে ধূসর, ধূসর থেকে ঘোলাটে রঙে তোমাকেই আঁকে,

চেয়ে দেখি; চেয়ে দেখি দ্বিধাবিভক্ত তুমি আকাশকেও বিভক্ত করে ফেল স্বপ্ন আর বাস্তবতায়

 

শহরের প্রিয়তমা, রেস্তোরায় তোমার পাশে বসার চেয়ে আমি হয়তো তোমার মুখোমুখি বসতেই পছন্দ করি,

পাশাপাশি হাঁটতেও আপত্তি করবনা,

যদি তুমি বল

 

Advertisements

আজ তোমাকেই বলে দেব শহরের ইতিকথা

তোমার হাতে আঁকা বিড়ালটাও জীবন্ত হয়ে ওঠে কোন এক জীয়নকাঠির ছোঁয়ায়,
এই শহরের আনাচে কানাচে দেয়াল বেয়ে হেঁটে চলার সময় তার সবুজ মনিতে যখন সূর্যাস্তের সোনালী আভা ঝলসে ওঠে, আমি তাকিয়ে থাকি
এই শহরের ‘রঞ্জু+জুলেখা’ এর দেয়াল লিখনে হয়তো কিছুই বলতে বাকি থাকেনা, আমি তাকিয়ে দেখি তোমার আমার অব্যক্ত কথাগুলো ফুটে থাকে তুলিতে আঁকা চৌরাস্তার বিশাল নিওন সাইনবোর্ডের মত;
শহরের ধুঁকে ধুঁকে ছুটে চলা ট্রাফিকে তোমার কপালে যখন ভ্রুটা সামান্য কুঞ্চিত হয়, তখনই নেমে আসে মেঘমল্লর, ধেয়ে আসে শহরের দিকে, এই হতভাগা শহরকে ভিজিয়ে অশান্ত করবে বলে…
ভোরের গোলাপী আভায় শহরটা কেন যেন সাদামাটাই থাকে,
আমাদের গল্পের মত;
নাগরিক কোলাহল ছাপিয়ে শোনা যায় তোমার না বলা কথাগুলো,
প্রিয়তমা,
আমি এই শহরকে ভালোবাসিনি, বিষাদ ভরা দুপুর যখন চায়ের কাপে ছলকে ওঠে,
সেই হঠাত বিষ্ময়কে ভালোবেসেছি
লাখো মানুষের এই জমাট ব্যস্ততাকে ভালোবাসিনি, শহরের দিকে চেয়ে নিষ্পলক তোমার
মায়াময় বিষন্নতায় প্রিয়তমা,
তোমাকে ভালোবেসেছি।

Multiple Personality Disorder

এক মুঠো বিকেল শিশিতে পুরে নিয়ে যেতাম বৈকালের তীরে , যেখানে
আরাম আরাম মাথায় প্যাচানো ওড়নাটা তোমার দ্বৈতসত্ত্বাকে লুকাতে পারেনা
আমি অবাক হয়ে দেখি…
ডিজিটাল ইঁদুরের উপর রাখা হাতে যখন তোমার ছোঁয়া পাওয়া যায়,
আমারও কি ইচ্ছা করেনা প্রিয়তমা?

কোন এক খুব ভোরে ঘুম ভেঙেই তোমার ছায়া দেখে যখন মুগ্ধ হই,
আমারও কি ইচ্ছা করেনা ছুঁয়ে দিই তোমার পাঁপড়ির মত আঙুলগুলোকে?
তোমার পেল্ব ঠোঁটের গোলাপী আভায় যে হাসি লেগে থাকে,
তার পুরোটাই কি মেকি?
নাকি নাটকের শেষ অংকের মত সেখানেও কিছু কথা থাকে বাকি?

একজন মায়াবতীর কাছে খোলা চিঠি

কোন এক বিকেলে যদি খুব করে দেখ
চার রঙা ঘুড়িটা একটা গোত্তা খেয়ে মাটিতে ছুটে এল,
কি করবে তুমি মায়াবতী?

কোন এক চাঁদরঙা মেঘের দিকে তাকিয়ে যদি তোমার মনে হয়, জীবন,
ক্লান্ত পথটারও একবারে শেষ মোড়টায় ভুল সুরে কেটে গেল,
কি করবে তুমি মায়াবতী?

উঁচু দালান ঘেরা শহুরে জীবনটায় অভ্যস্ত হতে হতে
পার্কের স্বপ্নটার হাত ফসকে উড়ে যাওয়া বেলুনটাকেও যদি তোমার ধরতে ইচ্ছা হল,
তবে ছেড়ে দিলে কেন মায়াবতী?

এটা তোমাকে

এ রাতে তোমারও থাকার কথা ছিল
শহরে নেমে আসে অচেনা মেঘদল আর সোনালী পিক্সি
ঘুম ভাঙে তোমার হেলানো হ্যামকে

ছুঁয়ে দেখ হাতটাকে, সারি সারি হেডলাইটের আলোয় তোমাতে আলোছায়ার খেলা চলে
শুধু আমার বুকের ভেতর গাঢ় বিষাদ সাজ আর ভয়াল পথের খাঁজ মিথ্যা প্রেমের আবডালে

এ রাতে তোমারও থাকার কথা ছিল
ভোরের রক্তলাল সূর্যের আভায় হাসিমুখ আর হলুদ ট্যাক্সি
চমক ভাঙে কফির ছটপটে

পণ্য আমরা বিক্রি হই সস্তা দামে, ভাইভা বোর্ডে আর কালোবাজারিতে
বেশ্যা আমরা বেঁচে চলি কন্ঠ, দৃষ্টি আর চেতনা অলিখিত চুক্তিতে

এখানে তোমারও থাকার কথা ছিল
সন্ধ্যার নীলাভ অন্ধকারে ভবঘুরে পথভোলা জোনাকির আলোয় আমরা নাহয় তারা ই আঁকতাম
একটাই সুর দুই ঠোঁটে

[এই ব্লগটা আমি ছাড়া কেউ পড়েনা বলে পাব্লিশ করার সাহস হচ্ছে]

 

Once again

It was an evening in winter, blowing cold wind on the highway
A half-moon’s floating in the cloudy sky,
all those blear faces look pale, worried
Let’s run to the city of lights.

We’ll sail a ship on the mountain top,
We’ll sing variant songs in chorus stop,
Summer wine will drip off our skin,
We’ll sink beneath the colors of rights.

Our Rights!!

সব আমাদের জন্য

“চৌরঙ্গীর আলো এবং লোডশেডিং, পার্ক স্ট্রিট জমকালো, কাগজে হেডিং, সব আমাদের জন্য
বেদম ট্রাফিক জ্যাম, ঠান্ডা সালামি হ্যাম, চকোলেট ক্যাডবেরি মাদার ডেয়ারি, সব আমাদের জন্য”

প্রচুর রোদ আজকেও। কৌতূহলে মোবাইল টিপে দেখি তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রিতে হাস্যোজ্জ্বল। রসিকতা ওখানেই শেষ হতে পারত। স্ক্রল করে দেখি বন্ধু আর্দ্রতার ভালোবাসায় এই তাপমাত্রাই নাকি ৫১ ডিগ্রীর মত মনে হবে। মরুভূমি খানিকটা আরাম হওয়ার কথা এর চেয়ে। উটে চেপে পাড়ি দিতাম, জ্যামে বসে থাকতে হতনা। পাশের ভদ্রলোক উসখুশ করছে। তার রুমালটা ইতোমধ্যেই ভিজে জবজবে। চিপকালে বাস ভেসে যাওয়ার কথা। হেডফোনটা কানে চেপে আমার পৃথিবীতে ফিরে যাই। বাইরের পৃথিবীতে যে অসংখ্য ইস্যু। রাজনীতি, ধর্মনীতি, সমাজনীতি আর বিপ্লব। আমার পৃথিবী? বিশাল। অসংখ্য গল্পে, সুরে, কাল্পনিক এডভেঞ্চারে। আমি? ছোট।

আমি ভাই প্রগতিশীল। প্রগতির সাথে খাপ খাওয়ায় বেঁচে থাকি। লেডি জাস্টিসকে তার তরবারীসহ নামিয়ে দেয়ায় যে অগ্রগতির ঢেউ পেলাম, তাতে ভেসেই মৌলবাদ দ্বীপে পৌছে যাব। নাবিক তো আমি না, চিন্তা কিসের? চোখের উপর বারান্দাওয়ালা টুপিটা চেপে ধরে ভূড়ি উঁচু করে ঘুমাই। আহ!! ভুল বুঝেছেন, সুখের চিহ্ন না ওটা, অপুষ্টির।

হঠাৎ হার্ড ব্রেকে ফিরে আসি হাঁসফাঁস গরমে। হ্যান্ডেলবারে ঝোলা হ্যাংলামত স্কুলবয়টা ছিটকে সামনে ধাক্কা খেয়ে সামলিয়ে নেয়। লাল রঙের একটা নিসান এসইউভি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে। পাশের গাড়ির ভদ্রলোকের সাথে হাতাহাতিটা হতে হতে যেয়েও হলনা। যাব্বাবাহ… আধাঘন্টা ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে গেল। দেড়কোটি টাকার গাড়ির মালিকের আধাঘন্টার দাম হয়তো লাখখানেক টাকা। আমার শ’খানেক। তবুও অর্থনীতির হিসাবকে কাঁচকলা দেখিয়ে আফসোসটা আমারই বেশি। তাদের কারণেই জিডিপি বাড়ে। দেশের রত্ন বলে কথা। বাড়ে মাথাপিছু আয়। বাড়ে কর, চালের দাম। বাড়ে মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস। বাড়ে দরিদ্রসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা।

আমি? আমি সুন্দরবন বেঁচে খাই। খাই রাস্তা, ব্রিজ, লাখ টাকার সিলিং ফ্যান। মাঝেমাঝে ভিক্ষাও করি। হয়তো বিশ্বব্যাংকের কঠিন কোন শর্তে। তবু শিখিনা। শিখতে চাইনা। শিক্ষাটাই বড় অশিক্ষা যে।
তাই মাদ্রাসা গড়ি। গড়ি প্রাইভেট স্কুল, ভার্সিটি আর অনুৎসাহী শিক্ষক। আর গড়ি ইস্যু। ইঁদুরের দলকে পনিরের টোপে গোলকধাঁধাঁয় আটকে রাখি। আমজনতার টাইটেলটা যে আমার কাঁধেই।

পৌঁছে গিয়েছি মহাখালি। যাই। অফিসটা কাছেই। এসির ঠান্ডা বাতাসে বিপ্লবটা ঠিক আসেনা। সুশীল যে আমি। শিল্পের চর্চায় গরীবরা থাকতে পারে, শুধু শিল্পেই। আসলে গরীব বলে কিচ্ছু নাই। ভুয়া। ওসব রূপকথা।