সব আমাদের জন্য

“চৌরঙ্গীর আলো এবং লোডশেডিং, পার্ক স্ট্রিট জমকালো, কাগজে হেডিং, সব আমাদের জন্য
বেদম ট্রাফিক জ্যাম, ঠান্ডা সালামি হ্যাম, চকোলেট ক্যাডবেরি মাদার ডেয়ারি, সব আমাদের জন্য”

প্রচুর রোদ আজকেও। কৌতূহলে মোবাইল টিপে দেখি তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রিতে হাস্যোজ্জ্বল। রসিকতা ওখানেই শেষ হতে পারত। স্ক্রল করে দেখি বন্ধু আর্দ্রতার ভালোবাসায় এই তাপমাত্রাই নাকি ৫১ ডিগ্রীর মত মনে হবে। মরুভূমি খানিকটা আরাম হওয়ার কথা এর চেয়ে। উটে চেপে পাড়ি দিতাম, জ্যামে বসে থাকতে হতনা। পাশের ভদ্রলোক উসখুশ করছে। তার রুমালটা ইতোমধ্যেই ভিজে জবজবে। চিপকালে বাস ভেসে যাওয়ার কথা। হেডফোনটা কানে চেপে আমার পৃথিবীতে ফিরে যাই। বাইরের পৃথিবীতে যে অসংখ্য ইস্যু। রাজনীতি, ধর্মনীতি, সমাজনীতি আর বিপ্লব। আমার পৃথিবী? বিশাল। অসংখ্য গল্পে, সুরে, কাল্পনিক এডভেঞ্চারে। আমি? ছোট।

আমি ভাই প্রগতিশীল। প্রগতির সাথে খাপ খাওয়ায় বেঁচে থাকি। লেডি জাস্টিসকে তার তরবারীসহ নামিয়ে দেয়ায় যে অগ্রগতির ঢেউ পেলাম, তাতে ভেসেই মৌলবাদ দ্বীপে পৌছে যাব। নাবিক তো আমি না, চিন্তা কিসের? চোখের উপর বারান্দাওয়ালা টুপিটা চেপে ধরে ভূড়ি উঁচু করে ঘুমাই। আহ!! ভুল বুঝেছেন, সুখের চিহ্ন না ওটা, অপুষ্টির।

হঠাৎ হার্ড ব্রেকে ফিরে আসি হাঁসফাঁস গরমে। হ্যান্ডেলবারে ঝোলা হ্যাংলামত স্কুলবয়টা ছিটকে সামনে ধাক্কা খেয়ে সামলিয়ে নেয়। লাল রঙের একটা নিসান এসইউভি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে। পাশের গাড়ির ভদ্রলোকের সাথে হাতাহাতিটা হতে হতে যেয়েও হলনা। যাব্বাবাহ… আধাঘন্টা ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে গেল। দেড়কোটি টাকার গাড়ির মালিকের আধাঘন্টার দাম হয়তো লাখখানেক টাকা। আমার শ’খানেক। তবুও অর্থনীতির হিসাবকে কাঁচকলা দেখিয়ে আফসোসটা আমারই বেশি। তাদের কারণেই জিডিপি বাড়ে। দেশের রত্ন বলে কথা। বাড়ে মাথাপিছু আয়। বাড়ে কর, চালের দাম। বাড়ে মধ্যবিত্তের দীর্ঘশ্বাস। বাড়ে দরিদ্রসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা।

আমি? আমি সুন্দরবন বেঁচে খাই। খাই রাস্তা, ব্রিজ, লাখ টাকার সিলিং ফ্যান। মাঝেমাঝে ভিক্ষাও করি। হয়তো বিশ্বব্যাংকের কঠিন কোন শর্তে। তবু শিখিনা। শিখতে চাইনা। শিক্ষাটাই বড় অশিক্ষা যে।
তাই মাদ্রাসা গড়ি। গড়ি প্রাইভেট স্কুল, ভার্সিটি আর অনুৎসাহী শিক্ষক। আর গড়ি ইস্যু। ইঁদুরের দলকে পনিরের টোপে গোলকধাঁধাঁয় আটকে রাখি।

পৌঁছে গিয়েছি মহাখালি। যাই। অফিসটা কাছেই। এসির ঠান্ডা বাতাসে বিপ্লবটা ঠিক আসেনা। সুশীল যে আমি। শিল্পের চর্চায় গরীবরা থাকতে পারে, শুধু শিল্পেই। আসলে গরীব বলে কিচ্ছু নাই। ভুয়া। ওসব রূপকথা।

 

Advertisements

We built a house on sands

ভোর বেলায় বিউগল বাজাচ্ছে কে যেন। হাই টেম্পো। ধীরে ধীরে শব্দ কাছে আসতে লাগল। আরো কাছে। চোখ মেলে দেখে মোবাইলের এলার্ম। বন্ধ করে দিতেই কাঠের বেড়ার পাশের সমুদ্রের ডাক। কালো বেড়ালটা লাফ দিয়ে টেবিলের উপরে। ওখানেই… জাদুর ঘড়িটা। একটা ডায়াল নড়ে গেলে সময় আর অবস্থান চিকন সূতায় বেঁধে ছুটে যাবে অন্য কোন স্বপ্নে। রবিন হুড দ্যা গ্রিন হুডেড গাই। অসহায় মানুষগুলোর জন্য বুকে ছটফট করে। হিসস। বিড়ালই যে সে। বিশাল ঢেউ ভেঙে পরার শব্দ। বিছানা থেকে এলোমেলো উঠে বসে বালিতে পা ডুবানো। ডান পাশে তাকাতেই কোরাল তট। আর লাল, নীল, সবুজে ছাতা। লাল বেঞ্চে ছোট্ট একটা জলপরী বসা। মেয়েটা এত ছোট, দেখে রাখতে হয় অনেক। সমুদ্রের বিশাল ঢেউয়ে তার হাসি। ঝাউবনের পাশ থেকে ডুবা বালিতে ডুবে ডুবে এগুই। সমুদ্রটা যে অনেক কাছেই। নাগরিক কোলাহল মাথার ভিতরে তারস্বরে বাজছে। হঠাৎ এক ঝলক আলো। ভারী বজ্রপাতে প্রকম্পিত শহর। শুধু তুমি পিচের পথের মাঝে থেকে হেটে যাও অনিশ্চিতে। আবার একটা ঝলকানি।  সাথেই ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি।

“একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে…” কিন্তু না, অঞ্জনের সেই বৃষ্টিতে আমার হাতে ছাতা ছিল। জলপরীটার দেয়া। এত মায়ামায়া মেয়েটা। শহর আর সমুদ্রের মাঝখান থেকে আমরা হেঁটে যাই। আশ্রয়ে ছুটে আসা গাংচিলও বলতে চায় “অসময়ের কোন গল্প নাই”. তাই আমরা চুপচাপ হেঁটে যাই। আমাদের কোন তাড়া ছিলনা। কোরালে হেলান দিয়ে সাগরে ডুবে ডুবে আমাদের ফিসফিসিয়ে গল্প। যাহঃ যাওয়ার সময় হয়ে গেল। ছোট থেকে বড় ঢেউ আছড়ে আসে। একটু কেঁপে উঠি। তারপরেই অবিচল।  পরীটা পা দুলায় আর গল্প করে। হয়তো স্লাইড ক্যালিপার্সের মাইক্রোমিলিমিটারে মাপতে হবে আমাদের আঙ্গুলের দূরত্ব।  উঠে আসি। ছোঁয়া হয়না। মাপা হয়না। ঘোলাটে হয়ে যায় সাদা বালি, কাঠের দেয়াল, কমলা টিশার্টটা। এক ঝলক ঠান্ডা বাতাসে দুলে উঠি। বালিতে চোরাবালিতে তফাৎ কতখানি? কে জানে। ডুবে যাচ্ছি। আরো গভীরে। দূরের  উত্তাল সমুদ্রে কোনমতে ভেসে থাকা ট্রলারটাকে সৌভাগ্যবান মনে হয়। সমুদ্রের সাথেই জীবন। আমিও সমুদ্রেই যাব। আমার নৌকাটা ডুবে গেছে বহু বছর আগে। শুধু খোলা চোখে দিগন্ত দেখি…

ঘুমগল্প

রাত্রের অন্ধকার থেকে একটা হাত বেড়িয়ে আসে। ধোঁয়া ছায়ায় তার শীর্ণ পাঁচটি আঙ্গুলকে অবলোকে ছুঁয়ে দেখি। দূর থেকে ডাক ছুটে আসে। ছুটতে ছুটতে। আমিও ছুটি। সাঁই সাঁই হলুদ সাদা আলোর ছোটাছুটিতে হঠাৎ নিজেকে অপাঙতেও মনে হয়। ফুটপাথ থেকে রাস্তার মাঝখানটাই তখন বড় আপন। সোডিয়াম বাতিগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগে আজ বিষন্ন। হঠাৎ কোথাও কি একটা দ্যুতি খেলে গেল? শহরের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলা মোবাইলটা ইথারে যে গল্পগুলো রেখে গেল, তার খোঁজ কে রাখে? চায়ের দোকানের ১৫ ইঞ্চি টিভিটায় ছক্কার কোলাহলটা বেশ শোনা যায় কিন্তু। রঙিন আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে গেলে দেখি হাওয়াইয়ান গীটারের সাথে তবলায় বোল তুলেছে হলুদ হ্যাটের ভদ্রলোক। পিছনের ধূসর মানচিত্র ঝাপসা হয়ে আসে। হঠাৎ জীবনে ফিরে আসি। কাঁধের ব্যাগটা এত ভারী না হলে ছুটতে খানিকটা কম কষ্ট হত। পানি? একটু পানি? যে পানির জন্য যুদ্ধ হচ্ছে আজ?

“where were you when I was hurt and I was helpless?”

লাল একটা হেলমেট চেপে সাঁই করে ছুটে গেল এক সাইক্লিস্ট। পিছনেও একটা লাল চোখ। জ্বলে আর নিভে। বলতে চায় “see? um watching.” বড্ড তাড়া হয়তো। বাবার কোলে বসা পিচ্চিটা মোটরসাইকেলের সামনে বসে গোল চোখে শহর দেখে। বড় বড় প্রাচীর দেখে। সারি সারি আলো দেখে। ট্রাফিকের লাল ম্যাজিক ওয়ান্ড দেখে কিন্তু আকাশ দেখেনা। বড্ড ম্যাড়ম্যাড়ে যে। আর কত্ত ছোট। সরু একটা পথের মত আকাশে ছোট্ট যে দুই একটা নীল সাদা বিন্দু দেখে মনভোলা হাসি দেয়, সেটাও প্রাচীন অনেক। সেই আদিকাল থেকে। আমিও।

আর ছুটতে ইচ্ছা করেনা। পথের একাকীত্বে গা মিশাই। এখন আমার ঘুমিয়ে পরাই ভাল…

আমরা সবাই রাজা

Everything on the Internet which exemplifies Human Behavior actually talks about every person on earth. Let’s start with meme.
#Memes which emphasize on  human emotions, their daily days, stress, leisure, hobbies etc. “everything you do, they’re all yellow“. You sure find them interesting because in a way, they talk about you.
Then there are zodiacs. Some research articles say they could be true to some aspects. for zodiac signs describing your personality, you can relate at least twice or thrice in a month. Those who peek a boo the zodiac signs when scrolling, they may know better than me.

Continue reading

Darker Than Black

এনিমেঃ Darker Than Black
প্রোডাকশনঃ Studio Bones
এপিসোডঃ 25

myanimelist : 8.25
রেটিংঃ ৭.৫/১০

darker_than_black_382_1680

কন্ট্রাক্টর হেই (Hei), খাওয়াদাওয়া ভালোবাসে। সাদাসিধে ঘরসংসার। খানিকটা অসামাজিক জীবনযাপন। সেই শান্ত পৃথিবীতে বছর দশেক আগে হঠাৎ করেই আবির্ভাব হয় গেট এর। Heaven’s Gate এবং Hell’s Gate. একটার আবির্ভাব হয় দক্ষিণ আমেরিকায়, আর আরেকটা জাপানে। সাথে আবির্ভাব হয় রহস্যময় কন্ট্রাক্টরদের। Who are they?

Continue reading

Who are we deceiving?

#stopRampal #saveSundarban
Today was the day where a #hartal took place for the first time in History for #green. You heard about #RampalMovement, right? Okay, let me give you an intro. Bangladesh Govt. is somewhat adamant to build a coal-based power plant in Rampal. Why has it been an issue for Hartal? Inasmuch as it’s only 14 kilometers away from #Sundarban, it turned into an threat to natural diversities of the largest mangrove forest of the World. Okay, first of all, why are we in the goddamned world against this project?

  1.  Why #ProjectRampal isn’t a good idea
  2. Environmental Impact Assessment of Coal-based Thermal Power Plant of Rampal

Now, Govt. has something to say obviously. It’s their advertisement published in every major daily newspaper in Bangladesh. Is this a lie? Politically its #alternativefact (Trump would’ve been proud). Then protesters should have something to say too, right? Here it is.

Continue reading

হিমভ্রম

বিড়ালটা ট্র্যাশ ক্যান এর পাশ থেকে বের হয়ে হাতটা চেটে নেয়। হলুদ স্কার্টে হলুদ আর বেগুনী মিশানো ছন্দ নেমে চলে সিড়ি বেয়ে। হলুদ আগুনে নেচে বেড়ায় কোন স্যাক্সোফোনিক ধোঁয়া? লাল তরলে ভেসে যাওয়া অলীক স্বপ্নগুলো যদি হঠাৎ রক বাজানো শুরু করে কেমন হবে বল দেখি? বড্ড বিতিকিচ্ছিরি। পিচসড়কে দু’পাশে সারি সারি ল্যাম্পপোস্ট কুয়াশার বলয় দিয়ে কোন একটা গল্প বলার চেষ্টা করছিল হয়তোবা। দিগন্তের ওপাশে কি সেই আমাদেরই পায়ের ছাপ?

The grass was greener
The light was brighter
With friends surrounded
The nights of wonder

বেলুনে চেপে পৃথিবীটাকে দেখার শখ অনেকদিনের। কোন এক সকালে ঘুম ভেঙে দেখব পৃথিবীর ৪০০০ ফুট উপরে। তারপর ডানা ঝাপটিয়ে সেই দূর দেশে। যেখানে রাজকন্যা। ধুর,রাজকন্যা টন্যা সব বোগাস। মীথ। প্রাসাদের পাথরগুলোও সে কথা বলে। জানালা টপকে খেলতে যাওয়া কি আর আজকের কথা? তখন আমার একটা ড্রাগন ছিল। টুথলেস না কিন্তু। সমুদ্রের যে দ্বীপটায় ঝড় আর আগুন ঘরবাড়ি সাজায়, সেখানে তার বাসা। জোনাক জ্বলা রাতে লাল, নীল আর ধোয়াটে আভায় শিশুপাখিটার বড় ভয়। দূর্গম, দূর্বোধ্য পৃথিবী। বেঁচে থাকাটা তেমন মুশকিল না হলেও পছন্দনীয় ছিলনা তেমন। এক ডুবে সমুদ্রের তলদেশে প্ল্যাঙ্কটন পা রেখে হঠাৎ যদি মনে হয় ডলফিন হলেই বেশি ভাল হত? কে জানে। ডলফিন না হতে পারি, ছোটখাটো একটা জেলিফিশ হলেও চলে যেত দিন। স্বচ্ছ পাখনায় রংধনুর আবেশ। ফিনিক্স পাখির কথা বলছ? চিঠি বয়ে বয়ে সে বুড়ো হয়ে গেছে অনেক। এখন তার অখন্ড অবসর। চিমনি থেকে উঁকি দেয়া হুঁকো বুড়ো সরসরিয়ে নেমে এসে যখন সকালের নাস্তা চায়, শেয়ার মার্কেটে তখন বড্ড ব্যস্ততা। কারও দাম বাড়ছে, কারও কমছে। আমিও কমতে কমতে ঋণাত্মক অংকে। ভগ্নাংশে যে আমি বড্ড কাঁচা। হিসেবের খাতাটা ধূলোময়। আমার স্মৃতিগুলোও…